মলে শপিং করার সময় চুপিচুপি ভিডিও! আইআইটি ছাত্রকে মাঝরাস্তায় বেধড়ক পেটালেন ইনফ্লুয়েন্সার

একটি শপিং মলে কেনাকাটা করার সময় নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এক তরুণকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আয়ুশি শর্মা। অভিযুক্ত তরুণ নিজেকে একটি স্বনামধন্য আইআইটি (IIT)-র ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিলেও ক্ষিপ্ত আয়ুশির হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি। ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগের ধরণ
আয়ুশি শর্মার দাবি, তিনি যখন মলে কেনাকাটা করছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন, তখন ওই তরুণ আড়াল থেকে তার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং কথাবার্তা রেকর্ড করছিলেন। বিষয়টি টের পাওয়া মাত্রই আয়ুশি ওই তরুণের ওপর চড়াও হন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইনফ্লুয়েন্সার ওই তরুণের চুল ধরে টানছেন এবং ক্রমাগত তার মুখে আঘাত করছেন। সেখানে উপস্থিত অন্য ক্রেতারা ঘটনাটি দেখলেও আয়ুশি আক্রমণ থামাননি। পরবর্তীতে তিনি নিজেই এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন।
আইন বনাম তাৎক্ষণিক বিচার
এই ঘটনাটি ইন্টারনেটে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ আয়ুশির এই আচরণকে ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভিডিও রেকর্ডিং বা উত্যক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে পুলিশ বা মলে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীদের জানানো উচিত ছিল। কোনো নাগরিকের বিচার করার বা অন্যকে জনসমক্ষে মারধর করার আইনি অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। অন্যদিকে, সমাজের একাংশ আয়ুশির পক্ষ নিয়ে বলছেন যে, নারীদের নিরাপত্তার খাতিরে এবং তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে।
সম্ভাব্য আইনি ও সামাজিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ সন্দেহের বশে বা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে মারধর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী ছাত্র যদি আইনি ব্যবস্থা নেন, তবে ইনফ্লুয়েন্সার আয়ুশি শর্মার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি বা শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠতে পারে। এই ঘটনাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরে অন্যের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি গণপিটুনি বা জনসমক্ষে হেনস্তার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।