সাগরে তেলের স্রোত! ইরান থেকে সৌদি আরবের দিকে কী এই রহস্যময় ছায়া? বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

সাগরে তেলের স্রোত! ইরান থেকে সৌদি আরবের দিকে কী এই রহস্যময় ছায়া? বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

পারস্য উপসাগরে বিশাল তেলের আস্তরণ এবং ইরানের খাগ দ্বীপে মহাজাগতিক অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান থেকে সৌদি আরবের দিকে সমুদ্রের বুক চিরে একটি বিশালাকার কালচে আস্তরণ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই আস্তরণটি মূলত খনিজ তেল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

মজুত সংকটে সমুদ্রে তেল নিঃসরণ

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন কঠোর অবরোধের কারণে ইরান তার উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খাগ দ্বীপে মজুত ক্ষমতা উপচে পড়ছে। ইরানের প্রতিদিনের তেল উৎপাদন প্রায় ৩০ লক্ষ ব্যারেল। রপ্তানি বন্ধ থাকায় এই বিপুল পরিমাণ তেল সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইরান পুরনো ট্যাংকার ব্যবহার করে সমুদ্রে ভাসমান স্টোরেজ তৈরির চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, স্টোরেজ উপচে পড়া অথবা পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই বিশাল পরিমাণ তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে।

উৎপাদন সচল রাখার নেপথ্য কারণ

প্রশ্ন উঠেছে, স্টোরেজ পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ইরান তেল উৎপাদন কেন বন্ধ করছে না? পেট্রোলিয়াম বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের খনি একবার বন্ধ করে দিলে মাটির নিচে ভূগর্ভস্থ পাথরের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে। এতে জল বা গ্যাস ঢুকে খনির শোষণ ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরবর্তীতে উৎপাদন শুরু করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে খনি থেকে আগের মতো তেল পাওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়ে। মূলত খনিগুলোকে স্থায়ী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতেই ইরান বাধ্য হয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত তেল সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিবেশ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

এই তেল নিঃসরণ পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল আয়তনের এই তেলের আস্তরণ সামুদ্রিক মাছ, পাখি এবং প্রবাল প্রাচীরের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে কোনো সমঝোতায় না আসায় বাজারে তেলের দাম পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। হরমোজ প্রণালীর কাছে এই অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতাকে আরও উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *