যৌন উদ্দেশ্যহীন গালিগালাজ ‘শ্লীলতাহানি’ নয়, কর্মক্ষেত্রে বিবাদ নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের!

কর্মক্ষেত্রে বাদানুবাদের সময় যৌন উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো গালি বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করলেই তাকে ‘যৌন হয়রানি’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সম্প্রতি এক মামলার রায়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিচারপতি কীর্তি সিংয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি হলেও যৌন ইঙ্গিতহীন কোনো একক মন্তব্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪এ ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
ঘটনাটি গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। ২০১৮ সালে এক নারী কর্মী ছুটির আবেদন করলে ইমেইলের মাধ্যমে বিবাদে জড়ান প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় পরিচালক অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। ঘটনার চার মাস পর ওই নারী যৌন হয়রানির মামলা করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, ইমেইল চালাচালি কেবল কাজ এবং চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে কোনো যৌন উদ্দেশ্য ছিল না।
আইনের অপব্যবহার রোধে কঠোর বার্তা
হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত শব্দে কোনো যৌন প্রকৃতি ছিল না। এছাড়া অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্ব এবং বিদ্যমান চুক্তিগত বিরোধের কারণে এই মামলাটিকে আইনের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট পরিচালকের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আদালতের সময় নষ্ট করার জরিমানা হিসেবে পরিচালককে চণ্ডীগড়ের একটি জনকল্যাণ তহবিলে ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- কর্মক্ষেত্রে যৌন উদ্দেশ্যহীন গালিগালাজ যৌন হয়রানি নয় বলে রায় দিয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট।
- ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪এ ধারা কার্যকর হতে হলে মন্তব্যে যৌন ইঙ্গিত থাকা বাধ্যতামূলক।
- দীর্ঘ বিলম্বিত এফআইআর এবং কাজের বিরোধকে কেন্দ্র করে করা মামলাটিকে আইনের অপব্যবহার বলেছে আদালত।
- অভিযুক্ত পরিচালককে ২০ হাজার টাকা জনকল্যাণ তহবিলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মামলাটি খারিজ করা হয়েছে।