বিটেক ছাড়াই বছরে ৭৫ লক্ষের প্যাকেজ! বিএসসি গ্র্যাজুয়েটের এই সাফল্যের রহস্য কী?

ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইআইটির তকমা না থাকলেও যে কর্পোরেট দুনিয়ার শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন এক তরুণ। রেডডিটে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে বিএসসি ডিগ্রি নিয়ে মাত্র ৯ বছরে নিজের বার্ষিক বেতন ১.৮৪ লাখ টাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকায় নিয়ে গেছেন। তথাকথিত বড় ডিগ্রি বা নামী কলেজের নেটওয়ার্ক ছাড়াই শুধুমাত্র জেদ এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর লড়াই
২০১৭ সালে একটি সাধারণ টায়ার-থ্রি কলেজ থেকে বিএসসি (ম্যাথ) পাস করার পর ওই তরুণ একটি প্রথম সারির আইটি কো ম্পা নিতে সার্ভিস ডেস্ক এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শুরুতে তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল মাত্র ১.৮৪ লাখ টাকা। টানা চার বছর কাস্টমার হ্যান্ডলিং এবং যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ করার পর ২০২১ সাল নাগাদ তাঁর বেতন দাঁড়ায় ৪.৫ লাখ টাকায়। তবে সাফল্যের আসল সূত্রপাত ঘটে করোনা মহামারির সময়ে, যখন তিনি স্ট্র্যাটেজিক সুইচ বা কৌশলগতভাবে কো ম্পা নি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
চ্যালেঞ্জ ও কৌশলগত উত্তরণ
কেরিয়ারের মাঝপথে তিনি যেমন বিষাক্ত কর্মপরিবেশ ও বাজে ম্যানেজারের পাল্লায় পড়েছেন, তেমনি লে-অফের শিকারও হয়েছেন। তবে প্রতিটি বাধা ছিল তাঁর কাছে নতুন কিছু শেখার সুযোগ। বিগ ফোর কো ম্পা নিতে যোগ দিয়ে নিজের বেতন একলাফে ১৭.৪ লাখে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি ক্লাউড সিস্টেম, অটোমেশন এবং সলিউশন আর্কিটেকচারের মতো জটিল কারিগরি বিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করেন। এমনকি স্টার্টআপ থেকে চাকরি হারানোর পর ভেঙে না পড়ে তিন মাস কঠোর পরিশ্রম করে নতুন দক্ষতা শিখে ইন্টারভিউ দেন এবং ৭৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিতে ৭৫ লাখ টাকার অফার লেটার ছিনিয়ে নেন।
উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি যে কেবল কেরিয়ার শুরুর হাতিয়ার, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট রাখা এবং সমস্যা সমাধানের মানসিকতাই এই অভাবনীয় বেতনের মূল কারিগর বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথাগত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির অভাব যে দক্ষতার সামনে তুচ্ছ হতে পারে, এই সাফল্যগাথা অনেক চাকরিপ্রার্থীর কাছেই নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ১.৮৪ লাখ টাকা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে ৯ বছরে ৭৫ লাখ টাকার প্যাকেজ অর্জন।
- বিটেক ডিগ্রি ছাড়াই বিএসসি স্নাতক থেকে সলিউশন আর্কিটেক্ট পদে উত্তরণ।
- মহামারির সময়ে কৌশলগত কো ম্পা নি বদল এবং ক্লাউড সিস্টেমে দক্ষতা অর্জনই সাফল্যের চাবিকাঠি।
- লে-অফের পর হতাশ না হয়ে নতুন স্কিল শিখে ৭৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিতে বড় সাফল্য।