পশ্চিম এশিয়া সংকটে সতর্ক ভারত, জরুরি বৈঠকে রাজনাথ সিং

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারত। উদ্ভূত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত এই ‘অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী’ (IGoM) মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ফলে ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে।
অর্থনীতিতে অশনিসংকেত ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি
পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিতিশীলতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের শিল্প ও বাজারে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে কাঁচামালের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। নির্মাণ রসায়ন এবং আঠা উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ’ জানিয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ব্যয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফেভিকল, ডক্টর ফিক্সিট এবং এম-সিলের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খুব শীঘ্রই তারা তৃতীয় দফায় দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। কো ম্পা নির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুধাংশু वत्स জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা তাদের উৎপাদন খরচকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সংকটের মূল কারণ হলো পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা, যা বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করছে। ভারত তার তেলের চাহিদার বড় অংশ এই অঞ্চল থেকে আমদানি করে, তাই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবহণ এবং শিল্প উৎপাদন খাতে আঘাত হানছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সরকার শুধুমাত্র কৌশলগত নিরাপত্তা নয়, বরং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে নির্মাণ সামগ্রীর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।