‘ব্যর্থতা ঢাকতে মানুষের ওপর দায় চাপাচ্ছেন’, জ্বালানি সঙ্কটে মোদীর ‘সংযম’ বার্তায় রাহুলের তোপ

‘ব্যর্থতা ঢাকতে মানুষের ওপর দায় চাপাচ্ছেন’, জ্বালানি সঙ্কটে মোদীর ‘সংযম’ বার্তায় রাহুলের তোপ

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ভারতের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সংযম-বার্তা’ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের রাজনীতি। রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাত দফা পরামর্শকে সোমবার সরাসরি ‘ব্যর্থতার কবুলনামা’ বলে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ১২ বছরের শাসনকাল শেষে মোদীর এই আবেদনকে তাঁর প্রশাসনিক অক্ষমতা হিসেবেই দেখছে বিরোধী শিবির।

সংযমের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে সাতটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর মতে, রান্নার তেল ও রাসায়নিক সার আমদানিতে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। দেশবাসী যদি রান্নার তেলের ব্যবহার কমান এবং কৃষকরা রাসায়নিক সারের বদলে প্রাকৃতিক চাষে গুরুত্ব দেন, তবে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত হবে। এছাড়াও পেট্রোল-ডিজেলের সাশ্রয় করতে গণপরিবহণ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে সোনা না কেনার মতো পরামর্শও দেন তিনি। মোদীর ভাষায়, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই ‘সংযমই হলো আধুনিক দেশপ্রেম’।

রাহুলের পাল্টা আক্রমণ ও ব্যর্থতার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব পালন করতে না পেরে এখন সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। রাহুলের মতে, ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর জনগণকে কী খেতে হবে বা কোথায় যেতে হবে তা বলে দেওয়া আসলে সরকারের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বহিঃপ্রকাশ। একজন ‘আপসকারী’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেশ চালানোর ক্ষমতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় ভারতের অর্থনীতি যে চাপের মুখে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। তবে এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে বিরোধীরা সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ স্লোগানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। জ্বালানি ও রান্নার তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ মধ্যবিত্তের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনী আবহে মোদীর এই ‘সংযম নীতি’ এবং রাহুলের ‘ব্যর্থতার অভিযোগ’ আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *