প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় ধামাকা শুভেন্দুর! ৪৫ দিনে বিএসএফ-কে জমি থেকে আয়ুষ্মান ভারত—একগুচ্ছ মাস্টারস্ট্রোক নবান্নে

নবান্নে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় অগ্রাধিকার
মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণার মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো সীমান্ত সুরক্ষা ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের বাস্তবায়ন। রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তনের দিকে নজর রেখে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প রাজ্যে আজ থেকেই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার সুফল পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মসংস্থানে বড় ঘোষণা
রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করতে আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছে নতুন মন্ত্রিসভা। ইতিপূর্বে রাজ্যের আমলারা কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না, যা এখন থেকে শিথিল করা হলো। একইসঙ্গে কর্মপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জন্য স্বস্তির খবর।
আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ অনুযায়ী সমস্ত অসামাজিক কাজের বিচার প্রক্রিয়া চলবে। এছাড়া, রাজনৈতিক পালাবদলের লড়াইয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই ৩২১টি পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা করেছে সরকার। অবাধ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকেও এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে রাজ্য সরকার মূলত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমন্বয় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। দ্রুত জমি হস্তান্তর ও কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা যেমন জোরদার হবে, তেমনই সরকারি চাকরিতে বয়সের ছাড় শিক্ষিত কর্মপ্রার্থীদের নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।