‘সোনার বাংলা না করে আমরা ছাড়ব না’, ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে হুঙ্কার দিলীপের

‘সোনার বাংলা না করে আমরা ছাড়ব না’, ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে হুঙ্কার দিলীপের

রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আজ নবান্নে বসছে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই নয়া সরকারের যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে বাংলার উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও বিশ্লেষণধর্মী বার্তা দিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ ঘোষ। সোমবার সকালে সুভাষ সরোবরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বহু বছর পিছিয়ে পড়া পশ্চিমবঙ্গকে পুনরায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসানোই তাদের মূল লক্ষ্য। এদিন তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সোনার বাংলা না করে আমরা ছাড়ব না।”

উন্নয়নের মডেলে বদল ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন

বিজেপির এই প্রভাবশালী নেতার মতে, গত ৫০ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ইস্তেহারে দেওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মতো প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, মোদী সরকার যে অর্থ পাঠাত তা আগে আটকে দেওয়া হতো, কিন্তু এখন থেকে গরিব মানুষ সরাসরি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। ভারতকে অনুসরণ করে বাংলা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভয়ের রাজনীতি অবসান ও প্রশাসনের সক্রিয়তা

এদিন সুভাষ সরোবর থেকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন রাজ্যে যে তোলাবাজি এবং সমাজবিরোধীদের দাপট ছিল, তার অবসান ঘটেছে। দীর্ঘদিনের ‘ভয়ের রাজনীতি’ কাটিয়ে মানুষ এখন স্বস্তিতে। প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ ইতিম্যেদেই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্রিয় হয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের পরাজয়কে তিনি ‘পাপের ফল’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ও আগামীর পথ

এদিন বেলা ১১টা নাগাদ অগ্নিমিত্রা পাল ও দিলীপ ঘোষ নবান্নে পৌঁছান। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কোন নেতার কাঁধে কোন দপ্তরের দায়িত্ব বর্তাচ্ছে। দলের প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইস্তেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালনে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলবে দল। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বৈঠক থেকেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক রূপরেখা এবং নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারিত হতে চলেছে। মূলত দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দ্রুত রূপায়নই হতে যাচ্ছে এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *