পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়! এবার দাম বাড়ছে সাবান, বিস্কুট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের

পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়! এবার দাম বাড়ছে সাবান, বিস্কুট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও আগুন লাগার ইঙ্গিত মিলছে। সাবান, ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে বিস্কুট ও প্যাকেটজাত খাবারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রথম সারির এফএমসিজি (FMCG) কো ম্পা নিগুলো জানিয়েছে, উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ব্রিটানিয়া, ডাবর এবং হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের (HUL) মতো বৃহৎ সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।

কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কাঁচামাল আমদানি, পরিবহন এবং প্যাকেজিংয়ের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়াও কো ম্পা নিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ডাবর ইন্ডিয়ার দেওয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থ বছরে তারা প্রায় ১০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়েছে, যার ফলে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পণ্যের দাম গড়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, জ্বালানি ও প্যাকেজিং খরচ ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তারা সরাসরি দাম বাড়ানো অথবা প্যাকেটের ওজন কমানোর কথা ভাবছে।

ছোট প্যাকেটে টান ও কৌশল বদল

কো ম্পা নিগুলো তাদের মুনাফা ধরে রাখতে দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে যেমন বড় প্যাকেটের দাম বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে দাম অপরিবর্তিত রেখে প্যাকেটের ভেতরের পণ্যের পরিমাণ বা ওজন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৫, ১০ ও ১৫ টাকার ছোট প্যাকেটগুলোর ক্ষেত্রে এই ওজন কমানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে যাতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত না লাগে। এছাড়া খরচ কমাতে কো ম্পা নিগুলো বিভিন্ন পণ্যের ওপর দেওয়া ছাড় বা প্রমোশনাল অফারগুলোতেও কাটছাঁট করছে।

আসন্ন প্রভাব ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ

হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL) সংকেত দিয়েছে যে, সার্ফ এক্সেল, লাইফবয় বা ডাভ-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর দাম আগামীতে আরও বাড়তে পারে। কো ম্পা নিটি ইতোমধ্যেই ৮ থেকে ১০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির বোঝা বইছে, যা সামাল দিতে ২ থেকে ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পরিচর্যার জিনিসের এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড় ধরনের টান ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *