‘আর বঞ্চিত হবে না বাংলা, চালু হবে আটকে থাকা সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প’: ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে হুঙ্কার দিলীপের!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/10/dilip-ghosh-2026-05-10-09-42-29.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
সোমবার সকালে সুভাষ সরোবরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ফের মেজাজি ভঙ্গিতে ধরা দিলেন নবনিযুক্ত রাজ্য ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের প্রাক্কালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এতদিন রাজ্যে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প থমকে ছিল বা কার্যকর করতে দেওয়া হয়নি, এবার সেই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সমস্ত কেন্দ্রীয় সুযোগ-সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আর কোনো আপস করবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
উন্নয়ন ও সুশাসনের রূপরেখা
রাজ্যের প্রাক্তন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা টেনে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, অতীতে বহু অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষের নূন্যতম শৌচালয় বা পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হয়নি। সুভাষ সরোবর চত্বরের অব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, রাজনৈতিক কারণে জনস্বার্থের ক্ষতি করার দিন শেষ হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহে জ্বালানি তেলের সংকটের কথা মাথায় রেখে তিনি দেশবাসীকে সম্পদ ব্যবহারে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দক্ষতায় আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও ভারতে তেলের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে।
অপরাধ দমন ও নতুন বিনিয়োগের অঙ্গীকার
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং কর্মসংস্থান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন নবনিযুক্ত এই মন্ত্রী। চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় শার্প শ্যুটার গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে অপরাধীরা মাথা চাড়া দিতে না পারে। তোলাবাজি, বালি পাচার এবং লরি আটকে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ আদায়ের মতো সংস্কৃতি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শিল্পায়নের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের ‘টেকনোলজি হাব’ তৈরির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যে সুশাসন ফিরলে অনেক শিল্পপতি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। মূলত আমলাদের পারফরম্যান্স এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নতুন প্রশাসন পরিচালিত হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে বাংলাকে শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা।