বিদেশে বিয়েতে বছরে ১ লক্ষ কোটি টাকার অপচয় রুখতে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’

বিলাসিতার টানে বিদেশে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রবণতা বাড়ছে ভারতীয় বিত্তবানদের মধ্যে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার ভারতীয় পরিবার বিদেশের মাটিতে বিয়ের আয়োজন করেন, যার পেছনে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশের বাজারে চলে যাওয়া রুখতে এবং দেশীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডাক দিয়েছেন ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানের।
বিদেশের হাতছানি বনাম আকাশছোঁয়া খরচ
বিরাট কোহলি-অনুষ্কা শর্মার মতো তারকাদের দেখাদেখি বর্তমানে থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইতালি বা দুবাইয়ের মতো দেশগুলোতে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের হিড়িক পড়েছে। মূলত সামাজিক মর্যাদাবোধ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানেই উচ্চবিত্তরা দেশের বাইরে যাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে বিয়ের আয়োজন ভারতের তুলনায় অন্তত ২৫-৩০ শতাংশ বেশি ব্যয়বহুল। বিশেষ করে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং বিমান ভাড়া বৃদ্ধির ফলে এই খরচ আরও বেড়েছে। একটি বিলাসবহুল বিদেশি বিয়ের বাজেট ২০ কোটি থেকে শুরু করে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ওয়েডিং মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করা। বর্তমানে ভারতের ভেতরেই উদয়পুর, জয়পুর, গোয়া বা কোচির মতো শহরগুলো আন্তর্জাতিক মানের ওয়েডিং হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বিদেশে ব্যয় হওয়া এই ১ লক্ষ কোটি টাকা যদি দেশের অভ্যন্তরে খরচ হয়, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে একাধিক ক্ষেত্রে। এতে হোটেল ও পর্যটন শিল্প যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি ক্যাটারিং, সাজসজ্জা এবং পরিবহনের মতো স্থানীয় ব্যবসাগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ সফল হলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে তৃণমূল স্তরের কারিগর ও ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।