পাক সীমান্তে ভারতের নয়া ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! রাজস্থানে মোতায়েন হচ্ছে তেজস Mk1A-র প্রথম স্কোয়াড্রন

পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের আকাশপথের সুরক্ষা আরও নিশ্ছিদ্র করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। পশ্চিম সীমান্ত বরাবর রাজস্থানের ফরওয়ার্ড এয়ারবেসগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস Mk1A যুদ্ধবিমান। মূলত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাল ও ফালৌদি হবে প্রধান সামরিক কেন্দ্র
প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যেই বিকানেরের নাল এয়ারফোর্স স্টেশন তেজস Mk1A-এর প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হবে। এখানে প্রথম ও তৃতীয় স্কোয়াড্রনকে মোতায়েন করা হবে, যা দীর্ঘকাল পরিষেবা দেওয়া পুরনো মিগ-২১ বাইসন স্কোয়াড্রনের স্থলাভিষিক্ত হবে। অন্যদিকে, রাজস্থানের ফালৌদি এয়ারবেসে মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় স্কোয়াড্রন। এই মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের এয়ারবেসগুলোতে বর্তমানে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। আধুনিক মেইনটেন্যান্স হ্যাঙ্গার এবং মিশন প্ল্যানিং সেন্টারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে হার্ডেনড এয়ারক্রাফট শেল্টার (HAS), যাতে শত্রুপক্ষের হামলাতেও বিমানগুলো সুরক্ষিত থাকে।
আধুনিক প্রযুক্তি ও রণকৌশলে বদল
তেজস Mk1A যুদ্ধবিমানটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা। এতে রয়েছে শক্তিশালী এইসা (AESA) রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা। এছাড়া এটি দীর্ঘ পাল্লার ‘অস্ত্র’ বিভিআর মিসাইল নিক্ষেপে সক্ষম। ফরওয়ার্ড বেসগুলোতে এই বিমান মোতায়েনের ফলে সীমান্তে শত্রুর যেকোনো গতিবিধির ওপর দ্রুত পাল্টাহানা দেওয়া সম্ভব হবে।
নির্ভরতা কমবে বিদেশের ওপর
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডকে (HAL) মোট ১৮০টি তেজস Mk1A বিমানের বরাত দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রতিরক্ষা অভিযানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে যুদ্ধের সময় বিদেশি যন্ত্রাংশ বা সহায়তার ওপর বায়ুসেনার নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।