‘কেটে পুঁতে দেব!’ বাংলাদেশ থেকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীকে, শুভেন্দুর নিরাপত্তায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের ‘ডেইলি ইনকিলাব’ নামক একটি ফেসবুক পেজে আপলোড করা একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে দেখা গেছে। ওই ভিডিওতে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে এলে তাঁকে ‘কেটে পুঁতে ফেলা হবে’। জুলাই আন্দোলনে নিহতের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
নিরাপত্তার ত্র্যহস্পর্শ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুনের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে কোনো বাংলাদেশ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এই প্রেক্ষাপটে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, একের পর এক হুমকি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে হামলার ঘটনার পর কোনোভাবেই নিরাপত্তার বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তঃসীমান্ত হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে রাজ্য সচিবালয়।
কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ নিরাপত্তা বলয়
মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিতে নবান্ন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একযোগে কাজ করছে। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘জেড’ (Z) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দক্ষ দলও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং রাজ্য পুলিশের এই যৌথ সমন্বয় মুখ্যমন্ত্রীর চারপাশে এক নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি করবে।
তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়িতে যাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিরোধী হওয়ায় প্রশাসন এমনভাবে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যাতে তাঁর সরকারি কর্মসূচি বা জনসম্পর্ক ব্যাহত না হয়। নবান্নের আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন, জনজীবন স্বাভাবিক রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করা হচ্ছে।