প্রথম ক্যাবিনেটেই শুভেন্দুর ‘মাস্টারস্ট্রোক’! চালু প্রকল্প থাকছেই, রাজ্যে ঢুকছে আয়ুষ্মান ভারত

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের মনে যে আশঙ্কা ছিল, তার অবসান ঘটালেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর সোমবার নবান্নে আয়োজিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, পূর্বতন সরকারের চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার (আয়ুষ্মান ভারত) পথ প্রশস্ত করে দীর্ঘদিনের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ইতি টানলেন তিনি।
পুরোনো প্রকল্প ও স্বচ্ছতার বার্তা
তৃণমূল জমানার জনপ্রিয় প্রকল্পগুলো ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জনহিতকর কোনো প্রকল্পই বাতিল হবে না, বরং সেগুলোতে স্বচ্ছতা আনা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাই করা, যাতে কোনো মৃত ব্যক্তি বা বিদেশি নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে না পারেন। ‘আমিত্ব’ নয় বরং ‘আমরা’ নীতিতে বিশ্বাস রেখে সরকার পরিচালিত হবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
আয়ুষ্মান ভারত ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জোয়ার
এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সূচনা। এর ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ এখন থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্য সচিব ও মুখ্য সচিবকে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে বাংলায় কার্যকর করার সবুজ সংকেত দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এতদিন যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্প থমকে ছিল বা নাম পরিবর্তন করে চালানো হচ্ছিল, সেগুলো এখন থেকে তাদের আসল নামেই পুরোদমে চালু হবে। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত আবেদনপত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানোর জন্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দিনেই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে হাঁটার বলিষ্ঠ ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।