‘দাদাগিরি সইবে না তেহরান’— মার্কিন চাপের মুখে বিস্ফোরক ইরানের প্রেসিডেন্ট

‘দাদাগিরি সইবে না তেহরান’— মার্কিন চাপের মুখে বিস্ফোরক ইরানের প্রেসিডেন্ট

আঞ্চলিক টানাপোড়েন ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে সুর নরম করল ইরান। সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, জাতীয় মর্যাদা ও কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে তেহরান প্রস্তুত। সশস্ত্র বাহিনীর অর্জিত সামরিক সাফল্যকে এখন কূটনীতির টেবিলে ফলপ্রসূ করতে চায় দেশটি। তবে এই আলোচনার প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

কূটনীতি ও শক্তির ভারসাম্য

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সামনে বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে—মর্যাদার সাথে আলোচনা, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা অথবা সরাসরি সংঘাত। এর মধ্যে তেহরান কূটনীতিকেই যৌক্তিক পথ হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, তার পূর্ণতা দিতে হবে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে। একইসাথে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ইরানের দাবি

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের মতে, তেহরানের প্রস্তাবগুলো কেবল জাতীয় স্বার্থ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত উদার ও যৌক্তিক। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবরোধ প্রত্যাহার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে রাখা ইরানি সম্পদ মুক্তি এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ইরান দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও আমেরিকা তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি থেকে সরছে না, যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।

ট্রাম্পের অসন্তোষ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইরান আলোচনার কথা বললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইসলামাবাদ মারফত পাঠানো ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি তেহরানের প্রতিনিধিদের প্রস্তাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শক্তির মহড়া এবং আলোচনার প্রস্তাবের মাঝে এই বিপরীতমুখী অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে কূটনীতির পথটি এখনো কণ্টকাকীর্ণ। এই আলোচনার ফলাফল শেষ পর্যন্ত ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *