ক্ষমতায় এসেই অ্যাকশন! প্রশাসনিক দপ্তরে মমতার ছবি সরিয়ে মোদি-ভারতমাতার ছবি

ক্ষমতায় এসেই অ্যাকশন! প্রশাসনিক দপ্তরে মমতার ছবি সরিয়ে মোদি-ভারতমাতার ছবি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে। রাজ্যে ক্ষমতার মসনদে বসার পর বীরভূমের সিউড়িতে সরকারি অফিস থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতমাতার ছবি লাগানোর কাজ শুরু করেছে বিজেপি। শনিবার সিউড়ি ১ ও ২ নম্বর ব্লক অফিস, পুরসভা এবং জেলা পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে এই ছবি বদলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনিক দপ্তরে নতুন মেরুকরণ

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে এদিন কর্মী-সমর্থকরা প্রশাসনিক ভবনগুলোতে পৌঁছে যান। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল সরকারের আমলে এসব দপ্তরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি শোভা পেত। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই পুরনো ছবিগুলো সরিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ভারতমাতার ছবি টাঙানো হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ছবি সরকারি দপ্তরে থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এটি নতুন সরকারের প্রশাসনিক পরিচয়েরই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বীরভূম জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিগত সরকার প্রশাসনিক ভবনগুলোকে দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করছিল। তাদের মতে, তৃণমূল এখন ‘প্রাক্তন’ এবং রাজ্যে নতুন শাসনের সূচনা হয়েছে। তাই সরকারি নিয়ম মেনে ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে জানিয়েছেন, সরকারি দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি প্রশাসনিক সংস্কার, তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। পর্যবেক্ষকদের মতে, বীরভূমের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *