চিপস-নুডলসে লুকিয়ে আছে মরণফাঁদ! প্যাকেটজাত খাবারের ‘হিডেন অয়েল’ আপনার হার্টকে কি কুরে খাচ্ছে?

সুস্থ থাকতে রান্নার তেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ মিলি তেলের প্রয়োজন হলেও, আমাদের অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করছে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি চর্বি। বিশেষ করে চিপস, নুডলস বা বিস্কুটের মতো প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ‘হিডেন অয়েল’ বা লুকানো তেল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিনুন প্যাকেটজাত খাবারের অদৃশ্য বিষ
চায়ের আড্ডায় চানাচুর বা বিস্কুট আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু হিসেবে বলছে, ১০০ গ্রাম চানাচুর বা নোনতা খাবারে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে, যা অন্তত ৫ থেকে ৭ চামচ তেলের সমান। এমনকি সাধারণ গ্লুকোজ বা ক্রিম বিস্কুটেও থাকে প্রচুর পরিমাণে পাম অয়েল বা ভেজিটেবল ফ্যাট। ৫-৬টি ক্রিম বিস্কুট খেলে শরীরে প্রায় দেড় থেকে তিন চামচ তেল প্রবেশ করে, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে, দ্রুত রান্নার সুবিধার জন্য বেশিরভাগ ইনস্ট্যান্ট নুডলস আগে থেকেই ডুবো তেলে ভাজা (প্রি-ফ্লাইড) থাকে। ফলে এক প্যাকেট নুডলসেই ১০ থেকে ১৫ গ্রাম পর্যন্ত চর্বি থাকতে পারে। রাস্তার খাবার যেমন সিঙাড়া বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই রকম ভয়াবহ। একটি মাঝারি সিঙাড়ায় প্রায় ৩ চামচ পর্যন্ত তেল থাকে, যা একজন মানুষের দৈনিক চাহিদার প্রায় অর্ধেক।
ঝুঁকি এড়াতে করণীয়
অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের ফলে ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। এই ঝুঁকি কমাতে প্যাকেটজাত প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর জলখাবারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রান্নায় তেলের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি ডুবো তেলে ভাজা খাবারের বিকল্প হিসেবে এয়ার ফ্রায়ার বা বেকিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। খাদ্যাভ্যাসের এই ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অকাল মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।