মেসিকে পাড়ার পল্টু ভেবেছিলেন অরূপ বিশ্বাস, বিস্ফোরক তোপ ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রুর

মেসিকে পাড়ার পল্টু ভেবেছিলেন অরূপ বিশ্বাস, বিস্ফোরক তোপ ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রুর

কলকাতায় লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার স্মৃতি উসকে দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপেশাদার আচরণ এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণেই বিশ্বজয়ী ফুটবল তারকা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই যুবভারতী স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের অতি-উৎসাহী আচরণের তীব্র সমালোচনা করে শতদ্রু বলেন, “মেসিকে পাড়ার পল্টু ভেবেছিলেন অরূপ বিশ্বাস।”

নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেসির সেই সফরের বিশদ বিবরণ দিতে গিয়ে শতদ্রু দত্ত জানান, যুবভারতীতে মেসির অন্তত দেড় ঘণ্টা থাকার কথা থাকলেও তিনি মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়েন। অভিযোগ উঠেছে, কোনো রকম অ্যাক্রিডেশন কার্ড ছাড়াই সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিজনরা মেসির ব্যক্তিগত বলয়ে ঢুকে সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। শতদ্রুর দাবি, মেসির কাঁধে বা পেটে হাত দিয়ে ছবি তোলার যে প্রচেষ্টা চলেছিল, তা একজন আন্তর্জাতিক তারকার নিরাপত্তার জন্য চরম অবমাননাকর। এই বিশৃঙ্খলার জেরেই মেসির ম্যানেজার তৎক্ষণাৎ মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

টিকিট নিয়ে চাপ ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

তদানীন্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, টিকিটের জন্য দালালি ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন শতদ্রু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপুল টাকা খরচ করে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এই অন্যায্য দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে শতদ্রু মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছিলেন বলে জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে অরূপ বিশ্বাসকে আড়াল করতেই তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। তবে এই অপমানের শেষ দেখে ছাড়ার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই ক্রীড়া উদ্যোক্তা। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *