সোমনাথে ভক্তির জোয়ার! ১১ তীর্থের জলে মহাদেবের অভিষেক করলেন মোদী

আরব সাগরের নীল জলরাশি আর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের আবহে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপিত হলো। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের হাত ধরে পুনর্নির্মিত এই মন্দিরের আজ ৭৫ বছর পূর্তি। এই বিশেষ ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’-এর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালে জামনগরে পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকাটি এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সংস্কৃতির মহোৎসব ও বর্ণাঢ্য রোড শো
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জামনগরের হেলিপ্যাড থেকে বীর হামিরজি সার্কেল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ জুড়ে আয়োজিত হয় এক বিশাল রোড শো। রাস্তার দুই ধারে সমবেত হাজার হাজার মানুষের মুখে ছিল ‘হর হর মহাদেব’ জয়ধ্বনি। এই আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য। রাস্তার দুই ধারে প্রদর্শিত এই সাংস্কৃতিক মিলনমেলা যেন মন্দির নগরীতে এক ক্ষুদ্র ভারতের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে।
ভক্তি ও শক্তির অনন্য প্রদর্শন
মূল মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ‘জল অভিষেক’ ও ‘মহাপূজা’য় অংশ নেন। দেশের ১১টি পবিত্র তীর্থস্থান থেকে আনা জল দিয়ে বিশেষ ‘কুম্ভাভিষেক’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাঝে আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে পুষ্পবৃষ্টি এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে। তবে এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘সূর্যকিরণ’ টিমের শ্বাসরুদ্ধকর আকাশ-মহড়া। আধ্যাত্মিক ভক্তির সঙ্গে সামরিক শক্তির এই মেলবন্ধন উৎসবের গুরুত্বকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রভাব
সোমনাথ মন্দিরের এই ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি এবং বর্ণাঢ্য আয়োজন পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার করবে। একইসঙ্গে, দেশীয় সংস্কৃতি ও সামরিক সক্ষমতার এই যৌথ প্রদর্শনী বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে সোমনাথকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।