স্বপ্নপূরণের ৫ বছর! মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই চাকরিপ্রার্থীদের ‘সঞ্জীবনী’ দিলেন শুভেন্দু

রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বড়সড় চমক দিল নতুন সরকার। ভোটের প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সোমবার নবান্নে আয়োজিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং বঞ্চিতদের সুযোগ প্রদানই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
নিয়োগ জট কাটাতে বিশেষ ‘সঞ্জীবনী’
দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। অনেক যোগ্য প্রার্থীরই সরকারি চাকরির আবেদনের বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা বয়সের কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন, তারা পুনরায় নতুন উদ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, বিগত সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে অস্বচ্ছতা ও স্থবিরতা ছিল, তা কাটিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি সুবিচার করতেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সার্বিক সংস্কার ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুধুমাত্র চাকরির বয়স বাড়ানোই নয়, আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্যকর করা। এছাড়া প্রশাসনিক কাজের গতি ও মান বাড়াতে রাজ্যের আমলাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে জাতীয় জনগণনার কাজ শুরু করার বিষয়েও সবুজ সংকেত দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সরকারি এই পদক্ষেপের ফলে নিয়োগে গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর পরীক্ষার অপেক্ষায় থেকে ওভার-এজ হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের কাছে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জীবনদায়ী ওষুধের মতো কাজ করবে। নতুন সরকার তাদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একযোগে প্রশাসনিক সংস্কার এবং কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করার বার্তা দিতে চেয়েছে।