বাবার টাকা লুঠের ‘ডিজিটাল প্রতিশোধ’! ইউপিআই-এর ৩টি ভয়ঙ্কর ভুল ধরিয়ে তাক লাগাল হরিয়ানার ছাত্র

বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল সাইবার অপরাধীরা। পেশায় চালক বাবার সেই কষ্টার্জিত টাকা হারানোর যন্ত্রণা থেকেই জন্ম নিল এক অনন্য ডিজিটাল বিপ্লব। হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় জেলার তলওয়ানা খেড়ি গ্রামের মেধাবী ছাত্র অঙ্কিত ঠাকুর বর্তমান ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার চেয়েও নিরাপদ এক বিকল্প পেমেন্ট মডেল তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বিটেক কম্পিউটার সায়েন্সের এই ছাত্র দীর্ঘ গবেষণার পর বর্তমান লেনদেন ব্যবস্থায় তিনটি ভয়াবহ প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ‘বাগ’ শনাক্ত করেছেন।
নিরাপত্তার তিন বড় ফাঁদ
অঙ্কিতের গবেষণায় উঠে এসেছে বর্তমান ইউপিআই ব্যবস্থার তিনটি দুর্বল দিক, যা ব্যবহার করে হ্যাকাররা অনায়াসেই সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করছে। প্রথমত, ‘ক্রোম ইনটেন্ট ভালনারেবিলিটি’, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই কোনো ক্ষতিকারক ওয়েবসাইট ফোনের পেমেন্ট অ্যাপ খুলে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ‘অথেন্টিকেশন বাইপাস’, যা অ্যাপ লক বা বায়োমেট্রিক সুরক্ষা কবচকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ‘অডিও হাইজ্যাক’। এই পদ্ধতিতে পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা ভুয়া অ্যাপ ব্যবহারকারীকে ভুল ভয়েস কমান্ড দেয়। যেমন— “টাকা গ্রহণ করতে পিন দিন”, আর এই ফাঁদে পা দিলেই সর্বস্বান্ত হতে হয় গ্রাহককে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও আগামীর প্রভাব
এই ছিদ্রপথগুলো বন্ধ করতে অঙ্কিত সম্পূর্ণ নতুন একটি ইউপিআই ব্যবস্থা ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছেন। তার দাবি, এই নতুন প্রযুক্তি কেবল হ্যাকিং রুখবে না, বরং ভুলবশত হওয়া লেনদেনের ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। উল্লেখ্য, এই উদ্ভাবনের জন্য কোনো পেটেন্ট বা আর্থিক মুনাফা চান না অঙ্কিত। দেশের কোটি কোটি মানুষের ডিজিটাল লেনদেন নিরাপদ করতে তিনি এই প্রযুক্তি ভারত সরকারকে বিনামূল্যে প্রদান করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই গুগল সিকিউরিটি বট অঙ্কিতের রিপোর্ট করা একটি ত্রুটি সংশোধন করেছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে ভারতের অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবং সাইবার অপরাধ নির্মূল করতে তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অঙ্কিতের এই উদ্ভাবন সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে এক বিশাল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।