সাগরে দানা বাঁধছে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ! উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণের ২ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

দক্ষিণ-পশ্চিম এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে বুধবার ‘সুস্পষ্ট নিম্নচাপ’ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্তও সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে সরাসরি দক্ষিণবঙ্গে বড় দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলেও, প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তরে বৃষ্টির দাপট ও দক্ষিণের সতর্কতা
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলোতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বৃহস্পতিবার ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় ১৯ মে পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত চললেও আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব
বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণেই মূলত সাগর থেকে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। বৈশাখের শেষলগ্নে এই বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও, দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিম্নচাপটি সরাসরি বাংলার উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা না থাকায় আপাতত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদগণ।