পাঞ্জাবের কবাডি খেলোয়াড় খুনে জড়িত গ্যাংস্টার হ্যাপির তিন সঙ্গী বাংলা-ভুটান সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার!

পাঞ্জাবের বাটালায় একজন উদীয়মান কবাডি খেলোয়াড়সহ দু’জনকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ এলাকা থেকে অভিযুক্ত তিন কুখ্যাত শুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঞ্জাব পুলিশের অ্যান্টি গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (AGTF) এবং আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য আসে। ধৃতদের বুধবার আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ও গ্রেপ্তার
ধৃত তিন অভিযুক্তের নাম যতিন সিং, স্বজনদ্বীপ সিং ও মেহেকদীপ সিং। তারা পাঞ্জাবের কুখ্যাত গ্যাংস্টার হ্যাপি জাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৭ এপ্রিল বাটালা এলাকায় বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিল। সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই ৪০ বছর বয়সি কাশ্মির সিং এবং ১৯ বছর বয়সি কবাডি খেলোয়াড় জুগরাজ সিংয়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন আরও এক যুবক। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়ে ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাংলা-ভুটান সীমান্তে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের জালে বন্দি করে।
নেপথ্যে গ্যাংস্টার হ্যাপি জাট ও অপরাধ চক্র
তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হলো কুখ্যাত অপরাধী হারপিত সিং ওরফে হ্যাপি জাট। অমৃতসরের বাসিন্দা এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও খুনসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে হ্যাপি বিদেশে অবস্থান করলেও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ জানিয়েছেন, পাঞ্জাব পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ধৃতদের নিজ রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধীদের আন্তঃরাজ্য পালানোর প্রবণতা রুখতে পুলিশের এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রেপ্তারের ফলে পাঞ্জাবের অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হলো।