আবার হামলা হলে পরমাণু বোমা তৈরির পথে হাঁটবে ইরান

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার সরাসরি পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান। তেহরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলা চালানো হলে দেশটি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাইয়ের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে সাধারণত পরমাণু অস্ত্র তৈরির মূল উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়, যা এখন তেহরানের রণকৌশলের অংশ হতে চলেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্রমবর্ধমান সংঘাত
চলতি বছরের শুরুতে ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা যৌথ বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। যদিও মার্কিন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল ভান্ডার এখনো অক্ষত। এই মুহূর্তে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং মজুত রাখা জ্বালানি দেশের বাইরে পাঠানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
কূটনৈতিক সংকট ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার সামনে ইরানের জনগণের অধিকার সম্বলিত ‘১৪ দফা প্রস্তাব’ মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন যত দেরি করবে, মার্কিন করদাতাদের তত বেশি চড়া মূল্য দিতে হবে। মূলত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা সক্ষমতা এবং পরমাণু বোমার প্রচ্ছন্ন হুমকিকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতি ও পরমাণু কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।