বন্ধুদের মদ পার্টিতে রক্তারক্তি! নাবালককে কুপিয়ে খুন করে ভিডিও বানাল সহপাঠীরা

তামিলনাড়ুর সালেমে কিশোর অপরাধের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মদ্যপানের আসরে বচসাকে কেন্দ্র করে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জানা গিয়েছে, হত্যার পর সেই নৃশংস দৃশ্যের ভিডিও তৈরি করেছে অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বন্ধুত্বের আড়ালে ঘাতকচক্র
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নিহত কিশোর গোকুল সালেমের শীলনায়কানপট্টি এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে একজন সরকারি স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র, একজন বেসরকারি স্কুলের ছাত্র এবং অন্যজন বিহারের বাসিন্দা। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অভিযুক্তদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকের মাধ্যমে। গত মঙ্গলবার রাতে মাল্লুর সংলগ্ন কেজ্জাল নায়াক্কানপট্টি জঙ্গলে বসে তারা মদ্যপান করছিল। সেই সময় সেখানে গোকুল উপস্থিত হলে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, মদ্যপ অবস্থায় গোকুল জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
হিংস্রতা ও ভিডিও ধারণের বীভৎসতা
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত তিন কিশোর গোকুলের ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার শরীরে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি মুখমণ্ডল বিকৃত করে দেওয়া হয়। অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার পর তারা সেই মৃতদেহের ভিডিও ধারণ করে উল্লাসে ফেটে পড়ে। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা দুজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করতে সক্ষম হলেও একজন এখনও পলাতক।
ঘটনার প্রভাব ও সামাজিক উদ্বেগ
এই হত্যাকাণ্ড আধুনিক কিশোর সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাবকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মদ্যপান, জাতিবিদ্বেষ এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার কীভাবে কমবয়সীদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সমাজতাত্ত্বিকরা। বর্তমানে পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।