খুব শীঘ্রই থামবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ? রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ট্রাম্প

খুব শীঘ্রই থামবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ? রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ট্রাম্প

ইউক্রেনের আকাশজুড়ে আবারও ড্রোনের গর্জন। বুধবার রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত। গত কয়েক দিনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই আক্রমণ শুরু হয়েছে। এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে সাধারণ মানুষ এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মতে, এবারের হামলায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। মধ্য নিপ্রো, উত্তর-পূর্ব খারকিভ, দক্ষিণ ওডেসা বন্দর এবং পোলতাভা অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো রুশ নিশানায় পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের মোট ১৪টি অঞ্চলে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে মস্কো। জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক মনোযোগ অন্য সংঘাতের দিকে সরে গেলে রাশিয়া আরও বেশি নৃশংস হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।

উত্তেজনার মাঝেও কি শান্তির আভাস?

রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহতার মাঝেই যুদ্ধ বন্ধের একটি ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরের আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি এখন অনেক কাছাকাছি। তার বিশ্বাস, রাশিয়া ও ইউক্রেন খুব দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। কাকতালীয়ভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সাম্প্রতিক এক ভাষণে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযান সম্ভবত শেষ হওয়ার পথে।

পাল্টা আক্রমণে রাশিয়াও বিপর্যস্ত

মস্কো যখন ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনকে লক্ষ্য বানাচ্ছে, কিয়েভও বসে নেই। ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি কেন্দ্র ও উৎপাদন ইউনিটগুলোতে আঘাত হানছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং আজভ সাগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৮৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে ক্রমাগত এই পাল্টা আক্রমণ রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধের এই চরম মুহূর্তে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তুঙ্গে, অন্যদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার গুঞ্জন প্রবল হচ্ছে। রাশিয়ার অবকাঠামো ধ্বংসের কৌশল এবং ইউক্রেনের প্রতিরোধের ক্ষমতা—এই দুইয়ের ভারসাম্যই সম্ভবত নির্ধারণ করবে আগামীর শান্তির রূপরেখা। তবে আপাতত ধ্বংসস্তূপের মাঝেই যুদ্ধ শেষের প্রত্যাশায় দিন গুনছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *