মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় প্রথম পা রাখছেন শুভেন্দু, শুরু হচ্ছে বিধায়কদের শপথগ্রহণ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় প্রথম পা রাখছেন শুভেন্দু, শুরু হচ্ছে বিধায়কদের শপথগ্রহণ

পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আজ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বিধানসভায় উপস্থিত হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত শনিবার ব্রিগেডের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আজই তিনি প্রথমবার বিধানসভা ভবনে পা রাখবেন। প্রথা অনুযায়ী নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে সেখানে বিশেষ ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করা হবে। বিধানসভায় পৌঁছে তিনি প্রথমে বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং এরপর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষে বিশেষ পূজায় অংশ নেবেন।

শপথগ্রহণের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া

বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এদিন প্রথমেই ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মন্ত্রীরা এবং জয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন। প্রথম পর্যায়ে উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের প্রার্থীরা এবং দ্বিতীয়ার্ধে নদিয়া ও দুই ২৪ পরগনার প্রার্থীরা বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। বাকি জেলাগুলোর প্রার্থীদের শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজ্যের বিগত পাঁচ বছরের বিরোধী দলনেতা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তাপস রায়কে গত মঙ্গলবারই শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর দুটি করে আসনে জয়ী হওয়ায় এবং প্রোটেম স্পিকারের শপথ আগেই হয়ে যাওয়ায়, সব মিলিয়ে ২৯০ জন প্রার্থীর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকার পূর্ণোদ্যমে প্রশাসনিক কাজ শুরু করাই এখন নতুন শাসকদলের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে স্পিকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, কারণ আইনত প্রোটেম স্পিকারেরই স্থায়ী স্পিকার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *