অভিষেকের নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের পথে রাজ্য, তবে কি বদলাচ্ছে মমতার সুরক্ষা বলয়?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পালাবদলের পর এবার বড়সড় রদবদল শুরু হলো ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা বলয়ে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক শীর্ষ নেতার সুরক্ষার স্তর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের চেনা নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
নিরাপত্তা হ্রাসের নেপথ্যে বর্তমান পরিস্থিতি
গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হুমকির মাত্রা বিচার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এতদিন তিনি যে উচ্চস্তরের ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির সুরক্ষা পেতেন, তা থেকে তাঁকে সরিয়ে আনা হচ্ছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন সাংসদ হিসেবে সাধারণ প্রোটোকলে যেটুকু নিরাপত্তা প্রাপ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন থেকে সেটুকুই পাবেন। কোনো অতিরিক্ত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর সুরক্ষায় আর মোতায়েন থাকবে না।
মমতার সুরক্ষা ও প্রশাসনিক কারণ
অভিষেকের নিরাপত্তা সংকুচিত করা হলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে নিয়মের বিশেষ পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রোটোকল মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির অধীনেই থাকছেন। নবগঠিত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ নয় বরং বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই রদবদল।
রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে যে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, রাজনৈতিক মহলের মতে এই নিরাপত্তা পর্যালোচনা তারই একটি অংশ। বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই আমলাতান্ত্রিক রদবদলের পাশাপাশি হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের সুরক্ষা বলয় নতুন করে সাজানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মূলত অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ কমানো এবং প্রকৃত হুমকির নিরিখে সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের প্রাথমিক লক্ষ্য।