ইরান যুদ্ধের আবহে এবার চিনের শরণাপন্ন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের আবহে এবার চিনের শরণাপন্ন ট্রাম্প

ইরানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় কূটনৈতিক সফরে বেজিং রওনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয়বার মার্কিন মসনদে বসার পর এটিই তাঁর প্রথম চিন সফর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তিনি চিনে অবস্থান করবেন। মূলত ইরান সংকট নিরসনে এশীয় শক্তির প্রধান স্তম্ভ চিনকে পাশে পেতেই ট্রাম্পের এই ঝটিকা সফর বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

বুধবার বেজিংগামী ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান সংঘাত নিয়ে শি-এর ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। যদিও গত মার্চ মাসেই এই সফর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় তা পিছিয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষবার দুই রাষ্ট্রনেতার সাক্ষাৎ হলেও বর্তমান রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধ থামাতে জিনপিংয়ের মধ্যস্থতা কি ট্রাম্পের তুরুপের তাস

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে চিনকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমান পরিস্থিতিকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করলেও, আদতে ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে চিনের প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে। ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির একমত হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব

ট্রাম্পের এই সফরের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব রাজনীতি ও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। যদি চিন ও আমেরিকা ইরান ইস্যুতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘চিন কার্ড’ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের চূড়ান্ত বৈঠকের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *