সিজিও কমপ্লেক্সে নির্ঘুম রাত সুজিত বসুর, নথির পাহাড় সামনে রেখে ম্যারাথন জেরা শুরু করলেন ইডি

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ইডি হেফাজতে প্রথম রাত কাটল চরম অস্বস্তিতে। আদালতের নির্দেশে ১০ দিনের হেফাজত পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, প্রথম রাতে তাঁর চোখে ঘুম ছিল না বললেই চলে। রাতের খাবারে অত্যন্ত হালকা পদ খেলেও বারবার তাঁর ঘুম ভেঙেছে। বুধবার সকালে লিকার চা ও সামান্য প্রাতঃরাশ সেরেই তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
জব্দ করা নথির ভিত্তিতে সাড়াঁশি জেরা
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য সামনে রেখেই সুজিত বসুকে জেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুজিত বসুর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। এছাড়া নিতাই দত্ত নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের বিষয়েও তাঁকে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হচ্ছে। ইডি আধিকারিকরা সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিতে কোটি কোটি টাকার হদিশ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন, যা নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীকে সদুত্তর দিতে হবে।
আর্থিক লেনদেন ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে উঠে এসেছে সুজিত বসুর মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁ। ইডির দাবি, করোনাকালে রেস্তোরাঁটি বন্ধ থাকলেও সেই সময় বিপুল পরিমাণ আয় দেখানো হয়েছে, যা তদন্তকারীদের মনে বড়সড় সন্দেহের দানা বেঁধেছে। ইডি মনে করছে, নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতেই এই ব্যবসায়িক সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত হেফাজত পাওয়ায় এই ১০ দিনে সুজিত বসুর সম্পত্তি ও প্রভাবশালী যোগসূত্রগুলোর উৎস সন্ধানে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই ম্যারাথন জেরার মাধ্যমে নিয়োগ কেলেঙ্কারির শিকড়ে পৌঁছানোই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।