জ্বালানি বাঁচাতে এবার নিজের কনভয় কাটছাঁট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সঙ্কট এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আবহে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাধারণ মানুষকে পেট্রল-ডিজেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর, এবার নিজের নিরাপত্তা বহর বা কনভয় থেকেই কৃচ্ছ্রসাধন শুরু করলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা একধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা মূলত দেশবাসীকে সংযমের বার্তা দেওয়ার একটি প্রতীকী ও কার্যকর পদক্ষেপ।
নিরাপত্তা বজায় রেখে সাশ্রয়ী মডেল
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংস্থা এসপিজি-কে (SPG) ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নিরাপত্তার প্রোটোকল অক্ষুণ্ণ রেখেই গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক করা হয়। এই পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যবহারের ওপর। তবে নতুন করে গাড়ি কিনে রাজকোষে চাপ না বাড়িয়ে বিদ্যমান সম্পদের মাধ্যমেই এই রদবদল সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরাও নিজেদের কনভয় ছোট করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাটিলও তাঁর নিরাপত্তা বহর থেকে এসকর্ট ভেহিকল বাদ দিয়ে এই সংযম অভিযানের অংশ হয়েছেন।
সংকটে নতুন দিশা ও প্রধানমন্ত্রীর সাত বার্তা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হায়দরাবাদের এক জনসভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলাসিতা বর্জন করে সাশ্রয়ী হওয়াই শ্রেয়। তাঁর দেওয়া পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, কারপুলিং বা গণপরিবহনে উৎসাহ দেওয়া, বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা এবং সোনা কেনার প্রবণতা কমানো। এছাড়া রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষ এবং স্থানীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রভাব ও পটভূমি
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয় ভারতকে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর নিজের কনভয় থেকে শুরু করা এই কৃচ্ছ্রসাধন অভিযান সরকারি স্তরে অপচয় রোধে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রচার ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।