আবুধাবিতে ব্যাচেলর, দেশে ফ্যামিলি ম্যান! লঙ্কান তরুণীকে অন্তঃসত্ত্বা করে গা ঢাকা দিল কেরালার যুবক

আবু ধাবিতে অবিবাহিত সেজে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয়, গর্ভপাত এবং শেষমেশ কেরালায় সস্ত্রীক ধরা পড়ার পর পলাতক এক যুবক। কেরালার কানিয়াপুরম এলাকার বাসিন্দা নজিমের (৩৪) বিরুদ্ধে এমনই এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী শ্রীলঙ্কার নাগরিক, যিনি প্রতারণার শিকার হয়ে বর্তমানে কেরালার এক মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
আবু ধাবিতে শুরু, কেরালায় নাটকীয় মোড়
নজিম ও ২৯ বছর বয়সী ওই শ্রীলঙ্কান তরুণী আবু ধাবির একটি মলে একসাথে কাজ করতেন। সেখানে নজিম নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘ আট মাস সহবাস করেন। তিন মাস আগে কেরালায় ফিরে আসার পর নজিম যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে ওই তরুণী তাকে খুঁজতে ভারতে চলে আসেন। পোটানকোট এলাকায় নজিমকে খুঁজে বের করলে তিনি ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে তরুণীকে একটি ভাড়া বাড়িতে রাখেন। এরপর জোরপূর্বক একটি বেসরকারি হাসপাতালে তরুণীর গর্ভপাত করিয়ে তাকে পুনরায় শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও নজিমের অন্তর্ধান
প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ৭ মে ওই নারী পুনরায় কেরালায় ফিরে এলে পরিস্থিতির মোড় ঘোরে। একটি লজে নজিমের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা চলাকালীন তরুণী আহত হন, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশি তদন্তের এক পর্যায়ে নজিমের স্ত্রী ও স্বজনরা থানায় উপস্থিত হলে তার বৈবাহিক জীবনের গোপন সত্যটি প্রকাশ পায়। মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় বিধ্বস্ত ওই তরুণীকে উদ্ধার করে বর্তমানে পেরুরকাদা মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এদিকে ঘটনার গুরুত্ব আঁচ করতে পেরে নজিম গা ঢাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে, নিজের স্বামী নিখোঁজ দাবি করে নজিমের স্ত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুরো ঘটনাটি এক রহস্যজনক মোড় নেয়।
প্রতারণার প্রভাব ও আইনি জটিলতা
এই ঘটনার ফলে ওই বিদেশি নারী চরম মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন এবং আইনি জটিলতার কারণে তার দেশে ফেরার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নজিমের এই দ্বৈত জীবন এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের অবমাননা ঘটেছে, অন্যদিকে তার নিজের পরিবারও সংকটের মুখে পড়েছে। পুলিশ বর্তমানে নজিমকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা প্রতারণা ও গর্ভপাতের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে।