তৃণমূল বিধায়করা এখন স্বাধীন বোধ করছেন, বিধানসভায় শপথ নিয়েই বড় দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিশার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ১৮তম বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার হবে সাধারণ মানুষের জন্য এবং প্রশাসনে কোনও লুকোছাপা বা গোপনীয়তা থাকবে না। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেও এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক সৌজন্য এবং প্রশাসনিক সংস্কারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা।
তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি ও স্বাধীনতার বার্তা
এদিন বিধানসভা ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সৌজন্য বিনিময় বিশেষ নজর কেড়েছে। তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ, আখরুজ্জামান এবং ইমানি বিশ্বাসের মতো নেতাদের তাঁর ঘরে উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক তাঁর কাছে স্বীকার করেছেন যে তাঁরা এতদিনে ‘স্বাধীনতা’ পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যে দীর্ঘদিনের এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটে এখন একটি মুক্ত ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মোদীকে অনুসরণ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যয় সঙ্কোচ এবং আড়ম্বরহীন জীবনযাত্রার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ফেলবেন। জনগণের করের টাকায় বিলাসিতা করার চেয়ে সেই অর্থ সরাসরি জনকল্যাণে ব্যয় করাই তাঁর লক্ষ্য। পাশাপাশি, সমস্ত বিধায়ককে নিজেদের এলাকায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নন্দীগ্রাম থেকে সরে এসে ভবানীপুরের বিধায়ক হলেও নিজের পুরোনো কেন্দ্রের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নন্দীগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক যোগ রয়েছে এবং সেই দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সরবেন না। স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং আড়ম্বরহীনতার যে বার্তা এদিন তিনি দিয়েছেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।