কলকাতায় থাবা বসাচ্ছে বাল্যবিবাহ, নাবালিকা সুরক্ষায় লালবাজারে নগরপালের কড়া বার্তা

কলকাতায় থাবা বসাচ্ছে বাল্যবিবাহ, নাবালিকা সুরক্ষায় লালবাজারে নগরপালের কড়া বার্তা

আধুনিক মনন আর প্রগতির শহর কলকাতায় মাথাচাড়া দিচ্ছে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি। মহানগরে নাবালিকা বিয়ে ও পকসো (POCSO) মামলার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং আইনি দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। সম্প্রতি আলিপুর বডিগার্ড লাইনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিক ও প্রতিটি থানার ওসি-দের উপস্থিতিতে বাল্যবিবাহ রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুরনো ব্যাধির প্রত্যাবর্তন ও নগরপালের উদ্বেগ

বৈঠকে পুলিশ কমিশনার স্মরণ করিয়ে দেন যে, কলকাতা সেই শহর যেখানে রাজা রামমোহন রায়ের মতো মনীষীরা বাল্যবিবাহ রোধে আজীবন লড়াই করেছেন। অথচ বর্তমান সময়েও মহানগরে এই প্রথা ফিরে আসায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। পুলিশি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে পরিবার স্বেচ্ছায় নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে, আবার কখনো নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলো গোপন থাকছে এবং সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসছে। এই গোপনীয়তা ভাঙতে এবং অপরাধ রুখতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে কড়াকড়ি ও আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ

লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, শহরে বর্তমানে প্রায় ৩০০টি পকসো মামলার নিষ্পত্তি ঝুলে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চার্জশিট জমা না পড়ায় অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে, যা নাবালিকাদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নগরপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা রুখতে হবে এবং বিয়ের ঘটনা ঘটে থাকলে স্বামী ও পরিবারের বিরুদ্ধে পকসো এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন যে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ফরেনসিক বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আগামী দিনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অমীমাংসিত পকসো মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে শহরের সামাজিক সুরক্ষা বলয় আরও শক্তিশালী হবে এবং অপরাধীদের মনে আইনি ভয় তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *