বিমানে করোনা আর জাহাজে হান্টাভাইরাস, মারণ এই জীবাণুর সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নতুন আতঙ্ক!

বিমানে করোনা আর জাহাজে হান্টাভাইরাস, মারণ এই জীবাণুর সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নতুন আতঙ্ক!

আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে শুরু হওয়া একটি প্রমোদতরী ভ্রমণ এখন বিশ্ববাসীর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেদারল্যান্ডের প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ ইঁদুর বাহিত মারণ রোগ ‘হান্টাভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যেই তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে থাকা অন্তত আটজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক। সংক্রমণের এই খবরে নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে।

সংক্রমণের সূত্রপাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ১ এপ্রিল দক্ষিণ আটলান্টিক সাগর ভ্রমণে বের হওয়া এই জাহাজে গত ৬ এপ্রিল প্রথম এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক অবস্থায় পেটের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও মে মাসের শুরুতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। মৃতদের মধ্যে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী রয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে এই ভাইরাস মানুষের সংস্পর্শেও ছড়াতে পারে। বর্তমানে ১৪৭ জন যাত্রীসহ জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে পৌঁছালে সেখানে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অনেক যাত্রীকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অদৃশ্য শত্রু হান্টাভাইরাস ও তার ঝুঁকি

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে ছড়ায়। তবে এর ‘অ্যানডেস স্ট্রেইন’ মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এক থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট এই রোগের প্রধান লক্ষণ। বিশেষ করে আমেরিকা অঞ্চলে এই ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সীমিত পরিসরে ঘনিষ্ঠ মেলামেশার কারণে জাহাজের ভেতর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জাহাজে দুইজন ভারতীয় ক্রু সদস্য থাকায় ভারতেও এই ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত আইসোলেশন এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং নিশ্চিত করা না গেলে করোনার মতো এই ভাইরাসও বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *