বিজেপির জয়ে তিস্তা চুক্তির নতুন আশা, মমতার বিদায়ে কেন উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলায় নতুন করে আশার আলো দেখছে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবন্টন চুক্তি বাস্তবায়নের পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রধান অন্তরায় ছিলেন বলে মনে করছে ঢাকা। বাংলায় সরকার পরিবর্তনের এই ঘটনাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা।
তিস্তা জট ও মমতার অনড় অবস্থান
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জলবন্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালে চুক্তি হলেও তিস্তা নদীর জল নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার ৩৭.৫ শতাংশ জল বাংলাদেশকে দেওয়ার একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আপত্তিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারেনি। বাংলাদেশের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একরোখা অবস্থানের কারণেই উত্তরবঙ্গের কৃষিকাজ ও সেচ ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্পর্ক উন্নয়নে বিজেপির ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর দলটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির তথ্য সচিব আজ়িজুল বারি হেলাল আশাপ্রকাশ করেছেন যে, এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকায় তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হবে। তাঁর মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য বিজেপি সরকার মোদী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই জল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে। গঙ্গা জলচুক্তির মেয়াদ এই বছরই শেষ হতে চলায় বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি তিস্তা চুক্তি সফল হয়, তবে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।