বিলাসবহুল কনভয় ছেড়ে বাসে চড়ে বিধানসভায়, জ্বালানি সাশ্রয়ে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বিলাসবহুল কনভয় ছেড়ে বাসে চড়ে বিধানসভায়, জ্বালানি সাশ্রয়ে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন নজির স্থাপন করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের দিনেই নিজের নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ও বিলাসিতা কমিয়ে সরকারি খরচ বাঁচানোর বার্তা দিলেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় শপথ নিতে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলেন। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, দলীয় বিধায়করাও ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাসে চড়ে বিধানসভায় এসে সাশ্রয় ও সরলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পথে হেঁটেই কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয় নীতিকে পাথেয় করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। সেই একই মডেল অনুসরণ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও আজ থেকে তাঁর কনভয় ছোট করার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

বাসে চড়ে শপথ নিতে এলেন বিধায়করা

জ্বালানি সাশ্রয়ের এই অভিযানে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে শামিল হয়েছেন বিজেপির অন্যান্য বিধায়করাও। উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গকেও পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এদিন অধিকাংশ বিধায়ক বাসে চেপে বিধানসভায় পৌঁছান। বিধানসভা সূত্রে খবর, আজ ও আগামীকাল মিলিয়ে দুই দফায় মোট ২৯০ জন বিধায়ক শপথ নেবেন। প্রথম দিনে উত্তরবঙ্গের জেলাসমূহ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।

প্রশাসন ও জনমনে প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কেবল প্রতীকী নয়, বরং সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস। মন্ত্রিসভা গঠনের পর অন্যান্য মন্ত্রীরাও যাতে একই পথে হাঁটেন, সেই বার্তাই আজ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও সপ্তাহে একদিন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার বা ‘নো ভেহিকেল ডে’ পালনের মতো কঠোর পদক্ষেপ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি প্রশাসনের নিচের তলা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারলে তা রাজ্যের আর্থিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *