শপথ নিয়েই অ্যাকশন মুডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের হুঁশিয়ারি

বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই নবান্ন থেকে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বৈঠকেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রশ্নে নতুন সরকার কোনো আপস করবে না। বিশেষ করে আগের সরকারের আটকে রাখা সিবিআই তদন্তের পথ প্রশস্ত করে এবং অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে তিনি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং তদন্তে সবুজ সংকেত
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সিবিআই মামলার জট খুলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া বা প্রসিকিউশনের অনুমতি আটকে রাখা হয়েছিল। এদিন তিনটি দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতেই এই সিদ্ধান্ত। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনারা কয়েকদিনের মধ্যেই এর ফল দেখতে পাবেন।” আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেও এ বিষয়ে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কৃষিপণ্য পরিবহণে ছাড় এবং অবৈধ কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কৃষিজ ও প্রাণীজ পণ্য সরবরাহে সব ধরনের বাধা নিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহণে কোনো কৃষক বা ব্যবসায়ীকে সীমান্তে হয়রানি করা যাবে না। অন্যদিকে, তিলজলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নবান্ন। তিলজলার ওই কারখানার কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। এর জেরেই কলকাতা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই ধরনের অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ কেটে দেওয়ার জন্য সিএসসি এবং কলকাতা পুরসভাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিলজলা কাণ্ডে ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে দুর্নীতি দমন এবং অন্যদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া—এই দ্বিবিধ কৌশলেই আগামীর পথ চলতে চাইছে নতুন সরকার। সরকার পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক রাজ্যের আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক মহলে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে।