গগনচুম্বী হতে পারে জ্বালানির দাম, সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ

গগনচুম্বী হতে পারে জ্বালানির দাম, সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের প্রভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে বড়সড় অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম ইতিমধ্যেই আকাশছোঁয়া। এবার সেই মূল্যবৃদ্ধির উত্তাপ সরাসরি আছড়ে পড়তে চলেছে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের ওপর। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই জ্বালানির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে।

জ্বালানি সংকটের নেপথ্যে বিশ্বরাজনীতি

মূলত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম লাফিয়ে বাড়লেও ভারতের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি এখনও ঘরোয়া বাজারে তেলের দাম বাড়ায়নি। এর ফলে সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ক্রুড অয়েলের ক্রয়মূল্য এবং বিক্রয়মূল্যের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। একই সাথে এলপিজি সিলিন্ডারের দামও অন্তত ৫০ টাকা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাশ্রয়ের পথে হাঁটার বার্তা ও সরকারি সতর্কতা

দেশের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বলে বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার, স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস এবং অফিসগুলিতে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়ে সাশ্রয়ের নজির স্থাপন করেছেন।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী অবশ্য দাবি করেছেন যে দেশে বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয়ের বার্তাকে একটি সতর্কবাণী বা ‘ওয়েক আপ কল’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা না কমে, তবে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতি এড়াতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একপ্রকার অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবহণ খরচ ও সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *