প্রতিজ্ঞার জয় নাকি রাজনীতির নতুন লড়াই, ভাঙা গাড়ি নিয়েই বিধানসভায় নওশাদ সিদ্দিকী

২০২৩ সালের সেই উত্তপ্ত স্মৃতি আজও অমলিন। ভাঙড়ের রাজনৈতিক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর গাড়ি। সেদিন ভাঙা কাচ আর ক্ষতিগ্রস্ত লুকিং গ্লাস সাক্ষী রেখে এক কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই গাড়িটি তিনি সারাবেন না। বুধবার নিজের সেই কথা রাখলেন তিনি। ভাঙা গাড়িটি চালক হিসেবে ব্যবহার করেই বিধানসভায় শপথ নিতে পৌঁছালেন এই তরুণ বিধায়ক।
প্রতিজ্ঞার নেপথ্যে থাকা সেই সংঘাত
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালে ভাঙড়ের হাতিশালায় দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সেই দিনই কলকাতায় পুলিশের সঙ্গে আইএসএফ কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে নওশাদ সিদ্দিকীসহ ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই হামলার সময় তাঁর গাড়িটি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হলে সামনের কাচ ও লুকিং গ্লাস ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষোভ এবং অপমানকে জিইয়ে রাখতেই গাড়িটি মেরামত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নওশাদ।
রাজনৈতিক বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওশাদের এই পদক্ষেপ কেবল আবেগতাড়িত নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। ভাঙা গাড়ি নিয়ে বিধানসভায় যাওয়ার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে ‘আক্রান্ত’ কিন্তু ‘অদম্য’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এটি তৃণমূল শিবিরের প্রতি এক ধরণের নীরব প্রতিবাদ এবং নিজের সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল। এই দৃশ্য রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের লড়াকু মানসিকতার প্রতীক হিসেবে আগামী দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। বিধানসভার আঙিনায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই ভাঙা গাড়ি যেন ফেলে আসা সংঘাত ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক জীবন্ত স্মারক হয়ে রইল।