অভিনয় ছেড়ে রাজনীতি নিয়ে মাতামাতি কেন, টলিউডকে সৃজনশীলতায় ফেরার বার্তা দিলেন সৌরভ দাস

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টলিউড আর রাজনীতি এখন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ও পরে বিনোদন জগতের তারকাদের রাজনৈতিক শিবিরে যোগদানের হিড়িক ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই ধারা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিনেতা সৌরভ দাস। তাঁর মতে, শিল্পীদের আসল পরিচয় হওয়া উচিত তাঁদের কাজের মাধ্যমে, কিন্তু বর্তমানে টলিউডে রাজনীতির প্রভাব সৃজনশীলতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।
রাজনীতি বনাম সৃজনশীলতা
সৌরভ দাসের মতে, ভারতের অন্য কোনো চলচ্চিত্র শিল্পে অভিনেতারা রাজনীতি নিয়ে এত বেশি সক্রিয় নন। টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অভিনেতারা কেন অভিনয় বাদ দিয়ে এত কথা বলেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়। বিনোদন জগতের মানুষেরা সৃজনশীল কাজ ছাড়া অন্য সব বিষয়েই বেশি সময় দিচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। এই অবস্থার জন্য তিনি নিজেকেও দায়ী করে জানিয়েছেন, এই বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সবার আবার সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত জরুরি।
অতীতের অবস্থান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়পর্দায় অভিষেক হওয়া অনেক তারকার মতোই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সৌরভ। তৎকালীন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বাবার ছাত্র রাজনীতির আদর্শ এবং মানুষের সেবা করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। তবে রাজনৈতিক এই সফরের মাঝেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিনেতা। বর্তমানে তাঁর গলায় শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর, যা টলিউডের অন্দরে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতি ও অভিনয়ের এই টানাপোড়েনের মাঝে সম্প্রতি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবির বাংলা মুক্তি নিয়েও সরব হয়েছিলেন সৌরভ। ব্যক্তিগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মিশেলে তাঁর এই সাম্প্রতিক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরে গিয়ে শিল্পীরা এখন নিজেদের স্বকীয়তা ও শিল্পসত্ত্বা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। বিনোদন জগতে রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমানোর এই বার্তা টলিউডের ভবিষ্যতে কোনো বড় পরিবর্তনের আভাস কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।