২০৩০-এর মধ্যেই কি এক ফোঁটা জলের জন্য কাঁদবে পাকিস্তান? ভারতের ৫টি বাঁধ নিয়ে তুমুল হুলুস্থুল

সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকে ভারতের জল ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে পাকিস্তানে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, চেনাব (চন্দ্রভাগা) নদীতে ভারতের দ্রুতগতির বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পগুলো পাকিস্তানের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে। তার মতে, ভারত জলকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তান এক ফোঁটা জলর জন্যও হাহাকার করতে পারে।
২০৩০ সালের মধ্যে বড় সংকটের পূর্বাভাস
পাক উপদেষ্টার দাবি অনুযায়ী, ভারত চেনাব নদীর ওপর পাঁচটি বড় বাঁধ নির্মাণ করছে যা ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভারত চাইলে যেকোনো সময় পাকিস্তানের জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সানাউল্লাহ অভিযোগ করেছেন, ভারত যদি শুষ্ক মৌসুমে জল আটকে দেয় তবে পাকিস্তানের কৃষি ও জনজীবন বিপর্যস্ত হবে। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে ভারত যদি হঠাৎ অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেয়, তবে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হবে। মূলত হিমাচল প্রদেশ থেকে উৎপন্ন হয়ে জম্মু-কাশ্মীরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদীটি পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের সেচ ও পানীয় জলের প্রধান উৎস।
পাল্টা ব্যবস্থা ও যুদ্ধের হুমকি
ভারত বর্তমানে চেনাব নদীতে বাগলিহার ও রাতলের মতো শক্তিশালী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে এই প্রকল্পগুলোর বিরোধিতা করে আসলেও বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রানা সানাউল্লাহ বিষয়টিকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাকিস্তান প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে বাগলিহার বাঁধকে লক্ষ্যবস্তু করতেও দ্বিধা করবে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান এখন নিজস্ব বিশাল জলাধার তৈরির পরিকল্পনা করছে যাতে ভারতের জল নিয়ন্ত্রণের প্রভাব কমানো যায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকে ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন জল বিরোধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।