শেষযাত্রায় মিলে গেল সবুজ-মেরুন আর লাল-হলুদ! চিরঘুমে ময়দানের ‘অভিভাবক’ টুটু বোস

কলকাতার ময়দান আজ শোকস্তব্ধ। কিংবদন্তি ক্রীড়া প্রশাসক টুটু বোসের প্রয়াণে সবুজ-মেরুন থেকে লাল-হলুদ, সর্বত্রই বিষাদের ছায়া। বুধবার বালিগঞ্জের বাসভবন থেকে শুরু করে তাঁর প্রিয় কর্মস্থল এবং ক্লাবে অগণিত মানুষের চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন তিনি। মোহনবাগান তাঁবুতে যখন তাঁর মরদেহ পৌঁছায়, তখন কেবল সমর্থক নন, উপস্থিত হয়েছিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্তারাও। মাঠের লড়াই ভুলে বিদায়বেলায় দুই প্রধানকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়ে গেলেন এই কিংবদন্তি।
স্মৃতির সরণিতে নক্ষত্ররা
টুটু বোসের প্রয়াণে মোহনবাগান ক্লাবে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মোহনবাগান এবং টুটু বোস সমার্থক। ক্লাবের প্রয়োজনে সবসময় তাঁর এগিয়ে আসার কথা স্মরণ করেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি। অন্যদিকে, প্রাক্তন ফুটবলার শ্যাম থাপা ও শিশির ঘোষদের কণ্ঠে ঝরে পড়ে দীর্ঘদিনের পথচলার স্মৃতি। তাঁদের মতে, টুটু বোস কেবল একজন প্রশাসক ছিলেন না, বরং ভারতীয় ফুটবলকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার নিরলস কারিগর ছিলেন। সুব্রত ভট্টাচার্য তাঁর আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে এই প্রয়াণকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সৌহার্দ্যের বিরল ছবি ও প্রশাসনিক শূন্যতা
এদিন বিশেষ নজর কেড়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তাদের উপস্থিতি। লাল-হলুদ শিবিরের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার প্রয়াত প্রশাসকের বিশাল হৃদয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, টুটু বোস ছিলেন এক অনন্য চরিত্র। তাঁর মৃত্যুতে ময়দান একজন অভিভাবককে হারাল। তবে এই শোকের আবহের মধ্যেই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশে বিলম্ব নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিপরীতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এবং ডায়মন্ড হারবার এফসি-র মতো ক্লাবগুলো মাঠেই নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানায়। কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ময়দানের একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের যবনিকা পড়ল।