পকেটে আসবে ৩০০০ টাকা! ১ জুন থেকেই চালু ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’, আবেদন করবেন কীভাবে?

রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নে এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যে জেলাশাসক ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও নতুন পোর্টাল
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের ওপর নির্ভর করতে হবে না। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকার একটি সম্পূর্ণ আলাদা ও সহজবোধ্য ওয়েব পোর্টাল তৈরি করছে। শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমেই এই প্রকল্পের আবেদন জমা দেওয়া যাবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, পোর্টালটি এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যাতে স্বল্পশিক্ষিত বা সাধারণ মহিলারাও কোনো জটিলতা ছাড়াই নিজের আবেদন নথিভুক্ত করতে পারেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
প্রকল্পের যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রাহক: যাঁরা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা সরাসরি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
- যাঁদের নাম বাদ পড়েছে: এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের তথ্য পুনরায় বিশ্লেষণ করা হবে। যদি তাঁরা প্রকৃত নাগরিক হন এবং ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে থাকেন, তবে তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন।
- অযোগ্যতা: কোনো আবেদনকারী যদি ভারতের নাগরিক না হন (যেমন রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী) অথবা আবেদনকারীর মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।
প্রকল্পের প্রভাব ও লক্ষ্য
১ জুন থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হলে রাজ্যের কয়েক কোটি মহিলা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার মহিলাদের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাঁদের আত্মনির্ভর করে তোলা। ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তটি মূলত দুর্নীতি রোধ এবং দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।