নিট বাতিল: ‘এনটিএ মানেই অবিশ্বস্ত সংস্থা’, প্রশ্নফাঁস নিয়ে অগ্নিশর্মা খান স্যার!

দেশজুড়ে নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং পরবর্তীতে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে উত্তাল চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রবেশিকা মহল। মঙ্গলবার পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণার পর দেশের প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক খান স্যার। সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একে ‘নন-ট্রাস্টেড এজেন্সি’ বা অবিশ্বস্ত সংস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তদন্তে অনীহা ও স্বচ্ছতার অভাব
খান স্যারের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনায় এনটিএ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রশ্নফাঁস বর্তমান সময়ে একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, ঘটনার শুরুতেই এনটিএ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার বদলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলো তৎপর হওয়ার আগেই সাধারণ পরীক্ষার্থীরাই এই জালিয়াতি প্রকাশ্যে এনেছে। এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে যেভাবে প্রশ্ন ছড়িয়েছে, তার পেছনে বড় কোনো অসাধু চক্র এবং কিছু কোচিং সেন্টারের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরীক্ষার্থীদের মানসিক ও আর্থিক সংকট
বাতিল হওয়া পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত পড়ুয়াদের ওপর বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, “পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক লক্ষ এমন রয়েছেন যারা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাত কাটিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। দরিদ্র পরিবারের এসব শিক্ষার্থীদের পক্ষে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার খরচ চালানো প্রায় আসাম্ভব।” বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রী হয়তো আর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসার সুযোগই পাবেন না।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় খান স্যার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকার সমালোচনা করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার ভবিষ্যৎ এখন পুনরায় আয়োজনের ওপর নির্ভর করছে, যার দিনক্ষণ আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে এনটিএ। তবে এই প্রশ্নফাঁস কাণ্ড যে জাতীয় স্তরের পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।