বিবেক দংশনের দোহাই দিয়ে তৃণমূল ছাড়লেন সুজাতা মণ্ডল!

বিবেক দংশনের দোহাই দিয়ে তৃণমূল ছাড়লেন সুজাতা মণ্ডল!

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে বাঁকুড়া জেলা পরিষদে বড়সড় ভাঙন ধরল। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করলেন জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ সুজাতা মণ্ডল। বুধবার জেলা পরিষদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলীয় পদ ও সদস্যপদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সুজাতার এই পদক্ষেপ ঘাসফুল শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুজাতার ইস্তফার নেপথ্যে ‘অভয়া’ ইস্যু

নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘বিবেক দংশন’-এর তত্ত্ব সামনে এনেছেন সুজাতা মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, আরজিকর হাসপাতালে ‘অভয়া’র মর্মান্তিক ঘটনার সময় থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন এবং তখনই দল ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। একজন নারী হিসেবে ওই ঘটনায় তিনি ক্রমাগত যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিলেন বলে দাবি করেন। সেই সময়ে পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে দলত্যাগ করতে না পারলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিনি আর কোনো আপস করতে রাজি নন। তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে সুজাতা স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

অস্বস্তিতে তৃণমূল ও বিরোধীদের পাল্টা কটাক্ষ

সুজাতা মণ্ডলের এই সিদ্ধান্তকে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায় এবং সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় দুজনেই দাবি করেছেন যে, দলে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠন বড় এবং একজনের চলে যাওয়ায় দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের পতনের শুরু হিসেবে দেখছে। বিরোধী শিবিরের পালটা প্রশ্ন, যখন ক্ষমতার অলিন্দে ছিলেন, তখন সুজাতার বিবেক কোথায় ছিল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূল নেতাদের এই ‘বিবেক উদয়’ আসলে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ারই কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *