ইরান যুদ্ধে টাকার শ্রাদ্ধ! পেন্টাগনের হিসেবে খরচের অঙ্ক জানলে চোখ কপালে উঠবে

ইরান যুদ্ধে টাকার শ্রাদ্ধ! পেন্টাগনের হিসেবে খরচের অঙ্ক জানলে চোখ কপালে উঠবে

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন সিংহ গর্জন’-এর আর্থিক খতিয়ান প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধে ওয়াশিংটনের এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কন্ট্রোলার জুলস হার্স্টের মতে, ব্যয়ের এই বিশাল অঙ্ক প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি।

অস্ত্রের মজুদ ও বিপুল সামরিক ব্যয়

পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, খরচের সিংহভাগ ব্যয় হয়েছে সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং গোলাবারুদ ক্রয়ের পেছনে। যুদ্ধের শুরুর দিকে খরচের গতি ছিল আকাশচুম্বী। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর তথ্যমতে, হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকার খরচ হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা দৈনিক হিসেবে প্রায় ৯০ কোটি ডলার। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল বোমার ব্যবহার এই বিপুল খরচের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। তবে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে অস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় বর্তমানে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

অর্থনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

যুদ্ধের এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক বোঝা মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের খরচ মেটাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারকে কংগ্রেসের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদনের জন্য বেগ পেতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমদানিকৃত এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *