প্রধানমন্ত্রীর পথে হেঁটেই কনভয় ছোট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, বিধানসভায় প্রবেশের আগে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম

কলকাতা: জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথ অনুসরণ করে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় অর্ধেক কমিয়ে দিলেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে এসে এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, গণতন্ত্রের মন্দিরে প্রবেশের আগে বিধানসভার সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন তিনি।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি জ্বালানি বাঁচানোর যে বার্তা দিয়েছিলেন, তাকে সম্মান জানিয়েই নিজের নিরাপত্তা বলয় থেকে অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজেপির অন্যান্য বিধায়করাও ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাসে চড়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন। পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি খরচ কমাতে আগামী দিনেও শাসক দলের পক্ষ থেকে এই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন জারি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
এদিন বিধানসভায় প্রবেশের মুহূর্তে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। অধিবেশন কক্ষের সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে ভেতরে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথামাফিক তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় এবং প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান সেরে নিজের নির্দিষ্ট ঘরে গিয়ে পুজোয় অংশ নেন তিনি। ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক আবহে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন শুভেন্দু। সবশেষে প্রোটেম স্পিকারের তত্ত্বাবধানে প্রথম বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কনভয় ছোট করার মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার বার্তা দিলেন, তেমনই জ্বালানি সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক সচেতনতার পরিচয় দিলেন। অন্যদিকে, দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে এবং সিবিআই তদন্তে রাজ্যের অনুমতি প্রথা তুলে দিয়ে শুরুতেই কড়া শাসনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।