বউমার আধুনিক পোশাক নিয়ে বিবাদ, অভিমানে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী শ্বশুর-শাশুড়ি!

জলদপত: আধুনিক জীবনযাত্রা বনাম গ্রামীণ সংস্কারের সংঘাত কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। হরিয়ানার জলপত জেলায় পুত্রবধূর পোশাক পরিধান এবং চালচলন নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন এক দম্পতি। মৃতদের নাম রাজেশ (৪৬) ও সুমন (৪৪)। গত শনিবার বিষ খাওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংস্কৃতির সংঘাত ও পারিবারিক বিবাদ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জলপতের বাসিন্দা আশিসের সঙ্গে দিল্লির মেয়ে স্নেহার দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পারিবারিকভাবেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্নেহা দিল্লির আধুনিক পরিবেশে বেড়ে ওঠায় বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির গ্রামীণ জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। বিশেষ করে তাঁর পোশাক-আশাক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রিল’ বানানোর নেশা নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে প্রায়ই বিবাদ লেগে থাকত। স্নেহার শ্বশুর-শাশুড়ি চাইতেন তিনি যেন গ্রাম্য প্রথা মেনে শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরেন, কিন্তু স্নেহা পাশ্চাত্য পোশাকেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য কারণ
অভিযোগ উঠেছে, বিবাদ চলাকালীন স্নেহা প্রায়ই তাঁর শাশুড়ির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন এবং শারীরিক নিগ্রহও চালাতেন। এমনকি তাঁদের একমাত্র পুত্র আশিসও এই বিষয়ে বাবা-মায়ের পাশে না দাঁড়িয়ে স্ত্রীর পক্ষ নিতেন। শনিবার দুপুরে পোশাক নিয়ে পুনরায় ঝগড়া শুরু হলে চরম মানসিক অবসাদে ভোগেন রাজেশ ও সুমন। এর পরপরই তাঁরা সালফাস (বিষাক্ত ট্যাবলেট) সেবন করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ এই ঘটনায় পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওএসআই-এর প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং পারিবারিক অশান্তিই এই মর্মান্তিক পরিণতির মূল কারণ।