চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বিহার থেকে জালে ৩ দুষ্কৃতী

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিহারের বক্সার জেলা থেকে তিন অভিযুক্তকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে বিশাল শ্রীবাস্তব নামে এক কুখ্যাত অপরাধী, যার বিরুদ্ধে বক্সারেই খুন ও ডাকাতিসহ অন্তত ২২টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্তের নাম ময়াঙ্ক মিশ্র ও ভিকি মৌর্য।
তদন্তে ইউপিআই লেনদেনের সূত্র
গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজের বাড়ির অদূরেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অপরাধীরা পালানোর সময় কলকাতার বালি টোল প্লাজায় একটি ইউপিআই পেমেন্ট করেছিল। ডিজিটাল লেনদেনের এই সূত্র ধরেই ঘাতকদের অবস্থান শনাক্ত করে এসটিএফ। বক্সারের পুলিশ সুপার শুভম আর্য অভিযান ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে।
পরিকল্পিত হামলা ও প্রভাব
ঘটনার রাতে চন্দ্রনাথবাবু যখন তাঁর এসইউভি গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই বাড়ির মাত্র ২০০ মিটার আগে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। হামলায় চন্দ্রনাথের চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর জখম হন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। একজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বের প্রাক্তন সহকারীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, সুপারি কিলার নিয়োগ করে অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় এই অপারেশন চালানো হয়েছে। এই গ্রেফতারির ফলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল চক্রী ও আসল উদ্দেশ্য দ্রুত প্রকাশ্যে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।